বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রমা কাটিয়ে আস্থা দিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়াবে পুলিশ: আরএমপি কমিশনার

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। সেই ট্রমা কাটিয়ে তাঁদের মনোবল ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মানবিকভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মনো-সামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপদগ্রস্ত ও ভিকটিম শিশুদের ভয় না দেখিয়ে আস্থার পরিবেশে কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনব্যাপী পুলিশ লাইন্সের পিওএম কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড হয়েছেন। তাঁদের সেই ট্রমা কাটিয়ে মনোবল ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ সদস্য নিজে মানসিকভাবে সুস্থ ও দৃঢ় থাকলে মানুষের পাশে আরও কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারবেন।” তিনি বলেন, “বিপদগ্রস্ত বা নির্যাতনের শিকার কোনো শিশু পুলিশের কাছে এলে তার সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ভয় নয়, আস্থা তৈরি করতে হবে। শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারলে সে নিজের কথা সহজে বলতে পারবে এবং প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে। তাই শিশুদের সঙ্গে কাজ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের মানবিক, ধৈর্যশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার বিকল্প নেই।”

দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রশিক্ষক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব শিশুদের মানসিক বিকাশ, ট্রমার প্রভাব, ভিকটিম শিশুর আচরণগত পরিবর্তন, নিরাপদ যোগাযোগ এবং মনো-সামাজিক সহায়তার কৌশল তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণে শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা, ভিকটিম শিশুদের মানসিক অবস্থা বোঝা, ট্রমার প্রভাব, কার্যকর যোগাযোগ, কাউন্সেলিং এবং মনো-সামাজিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলা করে কর্মক্ষেত্রে তা ইতিবাচকভাবে প্রয়োগের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম। তিনি জানান, শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থানা নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের সঙ্গে ‘সিটিজেন ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন’ ইন্টারফেস মিটিংয়ের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

এতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা, রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, মতিহার, চন্দ্রিমা ও শাহমখদুম থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের কর্মকর্তা, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৩০ জন এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নীলু বেগম, প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা, জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোসা. শারমিন সুরভী আক্তার ও অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank