

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু ও ৮ জন পুরুষ রয়েছেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে নিজ নিজ এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে এখনো ভারী হয়ে আছে পুরো জনপদ।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একই পরিবারের একাধিক সদস্য হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মো. আব্দুল আজিজ। তিনি জীবিত ফিরে এলেও হারিয়েছেন তার ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমীর খাতুন জেসমিন (৩০), সন্তান আব্দুর রহমান অমীত (১১) এবং খালা-শাশুড়ি নাসিমা বেগমকে। যে বাড়িতে কিছুদিন আগেও ঈদের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
প্রতিবেশীরা জানান, একসঙ্গে এতগুলো মরদেহের দৃশ্য তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। মায়ের কান্না, স্বজনদের বিলাপ আর শিশুদের নির্বাক দৃষ্টিতে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো গ্রাম।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নেও একই রকম শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে প্রাণ হারান মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও তার স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮)। স্ত্রীর জানাজা শেষে স্বামীর লাশ উদ্ধারের খবর পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় চারদিক ভারী হয়ে ওঠে।
ভবানীপুর গ্রামের শিশু ফাইজ শাহনূর (১১) ঈদের আনন্দে বাড়ি ফিরছিল, কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। তার নিথর দেহ দেখে স্বজনরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
মদাপুর ইউনিয়নের তরুণ আশরাফুল ইসলাম (২৪) জীবিকার তাগিদে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি আর জীবিত ফিরে আসেননি- ফিরেছেন লাশ হয়ে। তার মায়ের আহাজারিতে উপস্থিত সবাই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র মাধ্যমে বাসটি উদ্ধার করা হয়।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও স্বজনরা ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে।
ঈদের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কালুখালীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া- চারদিকে শুধুই কান্না আর স্বজন হারানোর বেদনা।
মন্তব্য করুন