শনিবার
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান চরমোনাই পীরের

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান চরমোনাই পীরের
expand
মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান চরমোনাই পীরের

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মঠবাড়িয়া শহীদ মোস্তফার খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঠবাড়িয়ার এ জনসভাকে কেন্দ্র করে বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। চরমোনাই পীরের সমর্থকদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করব। লক্ষ লক্ষ মানুষ একাত্তরে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন। এই ৫৪ বছরে যারা যে নীতি ও আদর্শে দেশ চালিয়েছে, তারা কি একটিও বাস্তবায়ন করতে পেরেছে?”

তিনি আরও বলেন, “বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী সাহেব ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন, ইনশাআল্লাহ।”

সমাবেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মঠবাড়িয়ার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে ইসলামী হুকুমত কায়েমের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী পেশায় একজন চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া)। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত ইমেজের ভিত্তিতে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া, যা সচরাচর দেখা যায় না।

তিনি পিরোজপুর-৩ আসন থেকে মোট চারবার (১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন দলের হয়ে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ। ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে দ্বিতীয়বার এমপি হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য প্রার্থীদের পরাজিত করে বিজয়ী হন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চমক। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকে নির্বাচন করে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বিগত সরকারের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন, যেখানে তিনি আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X