

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সেই তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জন্য এবার খোলা হয়েছে ব্যাংক হিসাব। এনপিবি নিউজসহ গণমাধ্যমে তাদের মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের সহায়তায় জমা হয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা।
রবিবার (৭ জুন) বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিন ভাইকে নিয়ে বৈঠকের পর অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সহায়তার অর্থ জমা রাখা হয়েছে।
এর আগে বাবা-মা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের দাসনগর এলাকার তিন প্রতিবন্ধী ভাই রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাসের করুণ জীবন জাপনের চিত্র সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সহায়তার অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা অমিত দাস জানান, সংবাদ প্রচারের আগে বিভিন্নজনের সহায়তায় প্রায় দুই লাখ টাকা জমা হয়েছিল। পরে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং প্রবাসীদের কাছ থেকেও মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা আসে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবাদ দেখার পর মানুষ ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন, আবার অনেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। আজ সব অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিন ভাইয়ের কল্যাণে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমদ বলেন, “আজ তিন ভাই আমাদের কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের উপস্থিতিতে অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এই হিসাবের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তার অনুমোদন থাকবে, যাতে অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তিন ভাইয়ের দেখাশোনা করেন যে সুস্থ ভাই রয়েছেন, তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন কিংবা বিশেষ কোনো কাজে অর্থের প্রয়োজন হলে আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে। এছাড়া জমাকৃত অর্থের মুনাফার একটি অংশ নিয়মিতভাবে তাদের জীবনযাপনের খরচে ব্যবহার করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, একসময় দুবেলা খাবারের জন্য অসহায় হয়ে পড়া তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জীবনে এই সহায়তা নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। তবে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।