সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সহিংসতায় উত্তপ্ত পটুয়াখালী, দুইটি আসনে বাড়ানো হলো সেনা-পুলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
সেনাবাহিনীর মোতায়েন
expand
সেনাবাহিনীর মোতায়েন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে একের পর এক সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের ঘটনায় দুই আসনেই আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্ধারিত বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

গতকাল রোববার পটুয়াখালী-২ আসনের বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন আহত হন। এ সময় জামায়াতের নারী শাখার সভাপতি ও অন্তঃসত্ত্বা লিমা জাহানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ করলে আবারও সংঘর্ষ বাধে। পরে বাউফল থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমানের প্রত্যাহারের দাবিতে থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে জামায়াত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পর রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে বাউফল উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানান জামায়াত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। ৩০ জানুয়ারি জামায়াত প্রার্থীর এক কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উভয় প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, বাউফল আসনে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৭০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়নের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নূর ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে চারটি মামলা হয়। প্রশাসনের একাধিক সতর্কবার্তার পরও উত্তেজনা কমেনি।

গতকাল নুরুল হক নূরের নিজ এলাকা চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। অপরদিকে হাসান মামুনের দশমিনার চরবোরহান ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত এক প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী-৩ আসনের দুই উপজেলায় মোট ১০ প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে একাধিক সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ দুটি আসনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন