

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগে মো. নূর উদ্দিন আসিফ (৩৩) নামে এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাকে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ভুইগড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসিফ দীর্ঘদিন ধরে সোনাইমুড়ী উপজেলার ১ নম্বর জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ বাজারে অবস্থিত ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং (ইউডিসি) শাখায় কাস্টমার সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ৯ আগস্ট দুপুরে ব্যাংকের জেলা ম্যানেজার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রুটিন পরিদর্শনে এসে শাখার হিসাব-নিকাশ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। এ সময় আসিফ কোনো তথ্য না দিয়ে হঠাৎ করে অফিস ত্যাগ করেন। পরে শাখার হিসাব যাচাই করে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।
এ ঘটনায় শাখাটির এজেন্ট ও সোনাইমুড়ী উপজেলার উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নূরুল আফছার সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আসিফকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া তার পরিবারের সদস্য কামরুন নাহার (২৫) ও আয়েশা খাতুন (৭০)-কেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শাখার লকারে থাকা ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুপস্থিত পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অর্থসহ প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে তাকে ফোনে কিংবা বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতারণার শিকার একাধিক গ্রাহক বলেন, মো. নূর উদ্দিন আসিফ বিভিন্ন কৌশলে আমাদের ডাবল ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছি। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা কিছুটা স্বস্তি ও সন্তুষ্টি পেয়েছি। তবে শুধু গ্রেপ্তারই নয়, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে যায়। আমরা তাকে আদালতে সোপর্দ করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকা এবং আত্মসাতের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


