

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


উজান থেকে নেমে আসা এক দিনের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের তোড়ে বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়েছে, আর নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবে প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , ১৯ জুলাই দিবাগত রাত দুইটার দিকে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ২১ জুলাই থেকে পানি কমতে শুরু করে এবং পরদিন নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা দেয় সড়ক ধস ও নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের শ্রীপুর, গজারমারি ও নলচাপড়া এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক। এ ছাড়া নাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর–দিলোরা এবং রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোনা, খাসপাড়া ও পাঁচগাঁও এলাকার আরও প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে এবং সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়ক সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের পথ। সম্প্রতি সরেজমিনে গজারমারি ও শ্রীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যদিনের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে।
গজারমারি গ্রামের বাসিন্দা পাঞ্জর আলী জানান, পাহাড়ি ঢলে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রতিবছরই এ ধরনের ক্ষতি হয়। তাই পিচঢালাইয়ের পরিবর্তে আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সড়কের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। নদীতীরবর্তী বিদ্যালয়টির আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভবনের পাশে ভাঙনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে গভীর নলকূপ সচল না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সুপেয় পানি পেতে সমস্যায় পড়ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন জানান, ভবনের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় একটি শ্রেণির পাঠদান পাশের একটি বাড়িতে নিতে হচ্ছে। অন্য শ্রেণির ক্লাস বিদ্যালয়েই চলছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় নলকূপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা ও সাত কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে সড়ক খাতে প্রায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
ছবিঃপাহাড়ি ঢলে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারি ও শ্রীপুর পাকা সড়কের কয়েকটি স্থানে ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।