

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেয়া আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
জানা গেছে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলালে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়। এই তিন উপজেলায় প্রতিদিন ২ টন আটা (৪০ বস্তা) ও ২ টন চাল বরাদ্দ ছিল। একজন সুবিধাভোগীর ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দের বিপরীতে বিক্রয় কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হদিস পাওয়া যেত না। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা ছাড়াই বাড়ি ফিরতেন। গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সকালে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্থানীয়রা ৪০ বস্তার জায়গায় ২০ বস্তা আটা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ বলেন, 'এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছেন। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।' ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, আটা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস। এই মিলের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০ বস্তা করেই আটা সরবরাহ করেছেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ কার্যক্রম চলে। বিক্রির আগের দিন মিল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়। কালাই উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।