

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাত্র ১৬ বছর বয়সেই রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী। হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে হামলার ঘটনায় বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। তার সমর্থকদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
জানা গেছে, এনসিপির কর্মসূচির দিনই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনি নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই কর্মসূচি শেয়ার করে বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে আলিফের চোখ হারানোর ঘটনায় হামলাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন অনেকে। মো. শিমুল নামে ফেসবুক পোস্টে এক সমালোচনাকারী বলেন, ‘যে হামলা করছে, দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মধ্যে যারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেছে তাদের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।’ সোহানুর রহমান নামে একজন পোস্ট দেন, ‘লিখে রাখুন, পুরষ্কার হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক করা হবে।’
এনসিপি নেতা সারজিস আলম লিখেছেন, যে সন্ত্রাসীর হামলায় আমাদের ভাই আলিফের একটি চোখ সারাজীবনের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার নাম- নাজমুল হাসান অনি সদস্য সচিব, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদল। বিচার কি হবে তারেক রহমান?
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে নিজাম উদ্দিন নামে একজন লিখেন, ‘নাসীরুদ্দীন, নাহিদ, সারজিস, বিএনপির অতিউৎসাহী কর্মী আজ প্রশ্ন একটাই—দায় কে নেবে..? বক্তৃতায় আগুন, মাঠে উত্তেজনা, আর শেষে রক্ত ঝরে সাধারণ মানুষের। রাজনীতিবিদরা বিবৃতি দেন, কিন্তু ক্ষত নিয়ে বাঁচে নিরীহ মানুষ।’
এদিকে ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর চোখে হামলার ঘটনায় প্রশংসাও পাচ্ছেন ছাত্রদল নেতা অনি। আলিফের ওপর অনির হামলার একটি ছবি ফেসবুকে তাকে ট্যাগ করে পোস্ট দিয়েছেন অনিক দাস অনল নামের একজন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নাজমুল হোসেন অনি বন্ধু তুই তো ভাইরাল..মাইরটা কিন্তু সেরা দিছিলি।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা লিখেছেন, ‘আপনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কথা বলবেন আর জনগণ আপনাকে ছেড়ে দিবে? আপনি তো রাজনীতি করার অধিকার ই রাখেন না। লেইম!’
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি এ হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে দায়ী করেছে। পরে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের হলে আরও এক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।
এদিন রাতেই হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। গতকাল ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আহত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
চিকিৎসকের ভাষ্য, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত চোখের রেটিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি দেখা গেছে। তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন মেরামত করা গেলেও ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা থাকে। বিদেশে নেওয়া হলেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হবে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলিফ দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে একজন। তার বাবা অসুস্থ এবং মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি হবিগঞ্জের একটি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।