

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিতর্কিত এ পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ ফিফার সব প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপও বর্জন করবে।
জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের মর্যাদা ও প্রতিযোগিতামূলক মান বড় ধরনের সংকটে পড়বে। কারণ, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আকর্ষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
এর আগে ফিফা 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)' নামে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল এবং এর প্রধান জশুয়া কুশনারের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-৩১ চক্রে 'ফিফা ফরোয়ার্ড' কর্মসূচির অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্যদেশগুলোকে এককালীন অতিরিক্ত অর্থ সহায়তাও দেওয়া হবে। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদন না পেলে অনুদানের পরিমাণ কমে যাবে।
উয়েফার অভিযোগ, আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে উয়েফা আরও বলেছে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হলে ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির উন্নয়নের পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের মুনাফাকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে এ প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। প্রস্তাব পাসের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থনও প্রয়োজন হবে। ফলে ইউরোপের বাইরে অন্যান্য কনফেডারেশনের অবস্থানও এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।