

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী শহিদ মিনার জাতীয় চেতনা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হলেও নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকায় অবস্থিত একটি শহিদ মিনার আজ চরম অবহেলা ও অযত্নের শিকার হয়ে পড়েছে। এমনকি শহিদ মিনারের বেদির ওপর বসেই নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বৃহস্পতিবার শহিদ মিনারের চত্বরে বসছে স্থানীয় সাপ্তাহিক হাট। শুধু চত্বরেই নয়, মিনারের মূল বেদির ওপর বসেই সবজি ও নিত্যপণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। জাতীয় দিবস এলেই সাময়িকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হলেও দিবস শেষ হলেই আবার আগের অবহেলিত অবস্থায় ফিরে যায় শহিদ মিনারটি।
এমন চিত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও শহিদ মিনারটির রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে এখানে হাট বসছে। ফলে শহিদ মিনারের পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা দ্রুত হাট সরিয়ে শহিদ মিনারকে সংরক্ষণের দাবি জানান।
এদিকে বাজারে বসা কয়েকজন সবজি বিক্রেতাও বিষয়টি স্বীকার করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বাজার বসছে এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণ না করায় তারা বাধ্য হয়ে শহিদ মিনারের চত্বরে ব্যবসা করছেন।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান শহিদ মিনারের অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, শহিদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য গ্রাম পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, শহিদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে হাট বসানো বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—শহিদ মিনারের বেদি ও চত্বরে স্থায়ীভাবে হাট বসানো বন্ধ করতে হবে।
মন্তব্য করুন
