

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় প্রায় ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পানিবন্দি এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপও দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে আমবাগানসহ বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবার এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, উজিরপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের ২ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নে ১২টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১৭টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উজানের ঢল ও পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে মোট ১৩০ দশমিক ৪০ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, আউশ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা, কলা, হলুদসহ অন্যান্য ফসল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৯ মিটার। নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। এছাড়া পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল (শনিবার) পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আজ থেকে তাদের প্রত্যেকের কাছে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা ইউএনও মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলার দুর্লভপুর, উজিরপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে সব পানিবন্দি মানুষের কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, সদর উপজেলায় ১২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ আছে। তবে অন্যত্র উঁচু স্থানে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, উজানের পানির ঢলে ১৩০ দশমিক ৪০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। যেসব রোপা আমন ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে বলে আশা করছি। ফলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।



