

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “তারেক রহমানের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। গ্রিন ও ক্লিন সিটি করার মূল শক্তি হলো আপনারা (পরিচ্ছন্নকর্মী)। আপনারা যদি মনোযোগ দেন, কাজ করেন তাহলে গ্রিন এবং ক্লিন সিটি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ গড়ে উঠবে।”
সোমবার (২ মার্চ) সকালে নগরভবনের নিচতলায় মিলনায়তনে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি নগরবাসীর জন্য আপনাদের কাছে প্রত্যাশা রাখি। এখানে যারা আছেন, আমি বা আপনারা যাই (বেতন) পাই সেটা নগরবাসীর, রাষ্ট্রের টাকা। ওই বেতন নিয়ে আমাদের সংসার চলে। যারা ট্যাক্স দেয় তাদের প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। নারায়ণগঞ্জ শহর পচা-দুর্গন্ধে ভরে গেছে।”
পরিচ্ছন্নকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, “আপনারা সরকারি চাকরি করেন। সরকারি চাকরি ৮ ঘণ্টার কিন্তু পূর্ববর্তী যারা ছিলেন মানবিক দৃষ্টি থেকে চার ঘণ্টা করার অনুমতি দিয়েছেন। দেশের আইন অনুযায়ী তা সঠিক না। তারপরও আমরা সেই চার ঘণ্টাই রাখবো। তবে আট ঘণ্টার কাজ এই চার ঘণ্টায় করতে হবে। আমি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ ওয়ার্ডে ৫৪ জন দেওয়া হয়েছে কিন্তু ১০ জন বা ২০ জনের বেশি দেখা যায় না। সব জায়গায় ময়লার স্তুপ। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই এবং সেই ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”
পরিচ্ছন্ন কাজ নিয়মিত তদারকি করা হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জের সব জায়গা, প্রতিটি মহল্লা চিনি। প্রতি মহল্লায় আমাদের লোকজন আছে। আপনাদের তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করে দেবো। যাতে আপনারা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আমাকে ও সিটি কর্পোরেশনকে ফাঁকি দিতে পারবেন কিন্তু উপরে একজন আছে, তাকে ফাঁকি দিতে পারবেন না। আপনারা ঈমানের সাথে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা মনিটরিং করব।" কাজে ফাঁকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন নবনিযুক্ত এ প্রশাসক।
সাখাওয়াত বলেন, “আমি কাউকে ছাঁটাই করতে চাই না। কিন্তু কাজে ফাঁকি দিলে আমাদের কঠোর হতে হবে। আপনাদের কষ্টে বা সামাজিকভাবে বিপদ-আপদ সমাধান করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমি চাই আপনারা দক্ষতার সাথে কাজ করবেন। যে কাজ করবে তার সাথে আমার, সিটি কর্পোরেশনের সম্পর্ক থাকবে। যে কাজ করবে না তার সাথে সম্পর্ক থাকবে না। আমি আপনাদের কার্যক্রম তদারকি, পরিদর্শন করবো। পরিদর্শনে গিয়ে কোনো গাফিলতি পাই আর কোনো ব্যবস্থা নিলে, ছাঁটাই করলে কান্নাকাটি করতে পারবেন না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাসিকের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কেএম ফরিদুল মিরাজ, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল প্রমূখ।
মন্তব্য করুন