শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার স্বামী পলাতক

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁ সদর উপজেলার গোয়ালি গ্রামে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক রয়েছেন।

নিহত ইয়াসমিন (১৮) বদলগাছি উপজেলার ভরট্ট বালুভরা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে। ছয় মাস আগে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয় নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার গোয়ালি মৎস্যজীবী পাড়ার বাসিন্দা আকাশের (২৩) সঙ্গে। আকাশ জমির উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরোনো বসতবাড়ি থেকে কান্নাকাটি করতে করতে পাশের একটি নতুন তিনতলা ভবনে যান ইয়াসমিন। পরে দুপুর প্রায় ১টার দিকে জুমার নামাজের প্রস্তুতিকালে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় মুসল্লিরা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাঁর স্বামীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

খবর পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানা-পুলিশের এসআই রেজাউল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামী আকাশ সেখান থেকে সরে পড়েন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

প্রতিবেশীরা জানান, আকাশ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন। তবে ঠিক কী কারণে এ মৃত্যু ঘটেছে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। নিহতের বড় বোন রেশমার বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশেই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইয়াসমিন রোজা রেখেছিলেন এবং সেহরি খেয়ে ছিলেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়; তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ইয়াসমিনের বড় দুলাভাই ইমান হোসেন বলেন, “আমার শালিকাকে এর আগেও নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ইয়াসমিনের বড় বোন বলেন, “সে ভোরে সেহরি খেয়েছিল। কোনো অস্বাভাবিক আচরণ ছিল না। হঠাৎ করে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্তের দাবি জানাই।”

তবে এ বিষয়ে নিহতের স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ সদর মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X