

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৯১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২শ থেকে ১৪শ জনের নামে দুটি মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। এর আগে বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি) রাতে আতিকুল ইসলাম ও মো. আমান উল্ল্যাহ বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দুটি (নম্বর-৩৩ ও ৩৪) দায়ের করেন।
এর আগে একই ঘটনায় বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম উল্লেখসহ ১১ শতাধিক নেতা-কর্মীর নামে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের (হরিণ) প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি বিকালে ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করলে ওই আসনটির বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কর্মী-সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৬-৭ কর্মী আহত হয় এবং ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এরপর সন্ধ্যার দিকে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজারে যুবদল নেতা শামীম আহমেদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে তিনজন কর্মীকে আহত করা হয় এবং ৭-৮টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ২১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৯শ জনের নামে দুটি মামলা হয়েছে। গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি রাতে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক ভালুকা মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন।
নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে ওই আসনটির বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ ওঠে। গত রোববার ২৫ জানুয়ারি ভালুকা পৌর সদর, কানার মার্কেট, বাটাজোর বাজার ও হবিরবাড়ি এলাকায় কয়েক দফা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওইসব হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষই ভালুকা মডেল থানায় চারটি মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষের দায়েরকৃত মামলার নাজিম মেম্বার নামে একজন আসামিকে নিজেরাই আটক করে থানায় সোপার্দ করে। ওই আসামি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই ওসি।
মন্তব্য করুন
