শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
পাল্টাপাল্টি হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে
expand
পাল্টাপাল্টি হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেকে ঘিরে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ও দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে ভালুকায় দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি এ হামলা চলে। এতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় এবং সমর্থকের কার্যালয়ে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর এলাকায় গণসংযোগ করতে যান। সেখানে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে ধানের শীষের সমর্থকেরা হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গাড়িতে তুলে দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার খবরে সন্ধ্যার দিকে ভালুকা পৌর সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় একটি দল। এ সময় প্রায় ১০-১২ জন নেতা-কর্মী আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির দলীয় লোকজন জড়ো হয়ে ইসলামী ব্যাংকের সামনে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আদি খান শাকিলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

এরপর ভালুকা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়াও উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজারে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, যুবদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ এবং সড়কে আগুন দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

রাত ৮টার দিকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত পৌনে ১০টার দিকে ভালুকা পৌর শহরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও উত্তেজনা চলছিল।

বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে ভালুকা পৌর এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বাটাজোর বাজারে একটি দোকানে বসে কথা বলার সময় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে একাধিক মোটরসাইকেল ও সিএনজি ভাংচুর করে। এ ঘটনার জন্য ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষকে দায়ি করা হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের সময় সেখানে থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত সভা করার সময় অতর্কিত হামলা চালান স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন।

নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করা ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রচারণার সময় ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর লোকজন একে অপরের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। আজ সন্ধ্যায় এ গন্ডগোল শুরু হয়, আগুন দেওয়া হয়েছে। চার-পাঁচটি স্পটে এসব ঘটনা হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানান, তিন দিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারে ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার নেতা-কর্মীদের বাধার সৃষ্টি করছিল। আজ সন্ধ্যায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পেছন থেকে এসে আমাকে ঘেরাও করে হামলা করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, এর আগে ভালুকা কাঠালী এলাকায় আমার দুইজন কর্মীকে মাইক্রোবাসসহ আটকে মারধর করা হয়। আমার দলীয় কার্যালয়, ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এখনো ভাঙচুর চলছে, ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারকর্মীদের ওপর হামলা করে নেতা-কর্মীদের আহত করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও প্রশাসন কোন ভূমিকা নিচ্ছে না।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X