

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর পালিয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সুমন সরকার (৪০)।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গজারিয়া থানা পুলিশ।
নিহত রিনা বেগম (৩২) উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে। আর গ্রেপ্তার সুমন সরকার চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামের বাছেদ সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় রং মিস্ত্রি। প্রায় ১৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খাবার দিতে বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে রাত ১০টার দিকে রিনা মেয়েকে নিয়ে ছোট একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমন পাশের বড় কক্ষে ঘুমান।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে বাড়িতেই অবস্থান করে ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর কুমিল্লার দিকে চলে যান।
হত্যার পর কুমিল্লার বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা থানা এলাকায় অবস্থান করেন সুমন। তাকে ধরতে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার গভীর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে পুলিশের অপর একটি দল টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, সুমন ও রিনার মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই কলহ হতো। এর আগে সুমন তার স্ত্রীকে একাধিকবার মারধর করেছেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহত রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন (২৩) বাদী হয়ে রোববার গজারিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি নং-২১; এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪/১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তদারকিতে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

