

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র মাহে রমজান প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঘনিয়ে আসছে ঈদ। তাই, ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ছোট-বড় সব শপিংমল, মার্কেট ও স্থানীয় দোকানগুলোতে দিন-রাত করে চলছে কেনাকাটার উৎসব। এসব বাজার ও শপিংমলে সব বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। ইফতার আর নামাজের বিরতি ছাড়া মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।
এবার বাজারগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে পিছিয়ে নেই অনলাইন প্লাটফর্মগুলো। এখন অনলাইন হতে অর্ডার করা পণ্যের পার্সেলটি একেবারে ক্রেতার ঘরের সামনে হাতে-হাতে ডেলিভারি দিচ্ছেন সবকটি প্রতিষ্ঠান। ফলে দিনদিন অনলাইন প্লাটফর্মে ক্রেতার আস্থা বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে নামিদামি কোম্পানিগুলোর অনলাইন প্লাটফর্ম থাকায় কেনাকাটায় আগ্রহী হচ্ছেন ক্রেতারা। এক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হতে কেনাকাটায় এগিয়ে রয়েছে মহিলারাই। কেননা রমজানে মহিলাদের কাজ কিছুটা বেশি। সব সামলিয়ে শপিংমলে গিয়ে দোকানে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটার ঝামেলা হতে অনলাইনে মোবাইল স্ক্রিনে পছন্দের পণ্য চয়েস করে তা অর্ডার করে মাত্র ২-৪ দিনের মধ্যে পণ্যটি হাতে পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা লিজা আক্তার বলেন, এবার ঈদের কেনাকাটার জন্য আমি অনলাইন প্লাটফর্মকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কেননা অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্তা অর্জন করছে। ঘরে বসে বিভিন্ন পেইজ ও ওয়েব সাইডে বাহারি ডিজাইনের নানান পণ্য হতে পছন্দ করা যায়। আমি এবারের ঈদের জন্য পছন্দের কাপড়টি অনলাইন থেকে নিয়েছি এবং আমার বেশ কিছু পরিচিত মানুষও একই পথ অনুসরণ করেছে।
এ দিকে লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়, মালিরঅংক, মাওয়া, হলদিয়া, চন্দ্রেরবাড়ি বাজারের বিভিন্ন মার্কেট হতে প্রতিবছরের মতো উপজেলাবাসী ঈদে কেনাকাটা করে থাকেন।
সরেজমিনে এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বাহারি জামা, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, সোনামনিদের বাহারি ডিজাইনের কাপড়, থানকাপড়, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড়সহ সব ধরনের কাপড়ের বিকিকিনি চলছে। প্রায় সব মার্কেটে ভারতীয় বাহারি ডিজাইনের শাড়ি, সুতোর কাজ করা কাপড়, টিস্যু, চুমকি ও ব্লক-বাটিকের কাপড়ে নজর বেশি ক্রেতাদের। তরুণীদের বাহারি নকশার থ্রিপিস- যার মধ্যে পাকিস্তানি থ্রিপিসের মধ্যে অর্গানজা, বিন হামিদ, বিন সাঈদ, নূরস, তাওয়াক্কাল, লেভিস ইত্যাদির চাহিদা বেশি বলে জানা যায়। তবে, লৌহজংয়ে বরাবরই জামদানি শাড়ির চাহিদা বেশি থাকে। কেননা এই শাড়িটি সব শ্রেণির মানুষের ক্রয়ের সাধ্যের মধ্যে পাওয়া যায়।
ঘোড়দৌড় বাজারের জগতবিবি মার্কেটের লৌহজং ক্লোথ ষ্টোরের প্রোপাইটর আকিব হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রোজার অনেক আগে থেকে আকর্ষণীয় মালামাল সংগ্রহে রেখেছি। আলহামদুলিল্লাহ, ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। গতবছরের চেয়ে এ বছর ব্যবসা এখন পর্যন্ত ভালো হচ্ছে। ২০ রমজান থেকে বিক্রি বেশি হচ্ছে। আশা করছি বাকি দিনগুলো বিক্রি বেড়ে যাবে।
লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বাজারে জমজমাট কেনাকাটার পাশাপাশি বখাটে, ছিনতাইকারীরাও সরব থাকে। তাই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সদা প্রস্তুত রয়েছি।
এ ব্যাপারে তদারকি বাড়িয়েছি এবং উপজেলার বড় বাজারগুলোর ব্যবসায়ীদের সাথেও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারী ও অপরাধীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন