

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজনীতির মাঠে দৃশ্যপট পাল্টায়, কিন্তু ইতিহাস থেকে যায়। রাজনীতির মাঠে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা যখন নির্বাচনী ময়দানে একে অপরের মুখোমুখি হন, তখন পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। একটি দুর্লভ স্থিরচিত্র এখন মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার সিলেটে আগমন উপলক্ষে ২০১৩ সালের মৌলভীবাজার জেলা ১৮ দলীয় জোটের সমন্বয় কমিটির একটি সভা। যেখানে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপি নেতা এম নাসের রহমান। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন জেলা আমীর এম আব্দুল মান্নান ও সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী।
সময়ের পরিক্রমায় সেই সভার তিন গুরুত্বপূর্ণ মুখই এখন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসন নিয়ে। এই আসনে এক সময়ের জোটের মিত্র দুই নেতা এখন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির নাসের রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমীর এম আব্দুল মান্নানও একই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনী মাঠে দুই সাবেক মিত্রের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের সমন্বয় কমিটির এই দুই নেতার ভোট ব্যাংক প্রায় একই ঘরানার হওয়ায় লড়াইটা হবে বেশ হাড্ডাহাড্ডি।
অন্যদিকে, সেই পুরনো ছবির আরেকজন মুখ ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, যিনি তখন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি ছিলেন, তিনি বর্তমানে বর্তমান জেলা আমীর হিসেবে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা কুলাউড়ায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজারের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এক সময় যাদের একই টেবিলে বসে আন্দোলনের ছক কষতে দেখা যেত, সময়ের পরিক্রমায় আজ তারা আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের শক্তির পরীক্ষা দিচ্ছেন। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলেও ভোটের সমীকরণে কে কাকে ছাড়িয়ে যাবেন, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত।
সাবেক ১৮ দলীয় জোটের সেই সমন্বয় সভার ছবি যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—সময়ের প্রয়োজনে মিত্ররা যেমন এক হয়, তেমনি ভোটের ময়দানে আবার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও আবির্ভূত হয়।
মন্তব্য করুন
