সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রমজানের আগেই কুষ্টিয়ায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
কুষ্টিয়ার কাচাবাজার
expand
কুষ্টিয়ার কাচাবাজার

রমজান মাস আসতে না আসতেই কুষ্টিয়ায় অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। খেজুর, ছোলা, ডাল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে।বাজারের এ অস্থিরতায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে খেজুর আগে যেখানে ১৪০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ১৯০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ছোলা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় এবং ছোলার বেসন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি (৪ পিস) লেবুর দাম ৩০ টাকা বেড়ে এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকায়। পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন আগে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিছরি ও আখের গুড় প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং মুড়ি ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে,দেশি মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে আলু ২০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা এবং রসুন ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, রমজান ঘিরে চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছেন। তাদের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব না কমালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রতি বছর রমজানের আগে একই চিত্র দেখা যায়। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়ে না। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার ও সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তাদের আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। একই সাথে আমাদের যে বিবরণ ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা আছেন প্রত্যেকে তাদের সঙ্গে অভিযান চালাবেন। ব্যাপক আকারে অভিযান চালাবো।

রমজানের আগেই যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। এখন দেখার বিষয় প্রশাসনের তৎপরতা কতটা কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমানো যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন