

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রজনতা ও এলাকাবাসী। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে এবং স্টেশনে আটকা পড়ে একটি আন্তঃনগর ট্রেন।
গত ২৯ জানুয়ারি রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম আবু সুফিয়ান। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি শনিবার রাত ১০টায় নিহতের বাবা আবু তাহের মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিতে চাইলে বাধা দিলে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও ছাত্রজনতা কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এতে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশনে আটকা পড়ে এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর পৌনে একটার দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা রেললাইন অবরোধ তুলে নেন। অবরোধ প্রত্যাহারের প্রায় এক ঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন। এরপর স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, ভৈরব রেলস্টেশনে এক যাত্রী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। পরে তিনি মারা যান। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনে মানববন্ধন ও ট্রেন অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে ঢাকাগামী এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ৫০ মিনিট বিলম্বে ছেড়ে যায়। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, মামলার পর ০১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রধান আসামি মেরাজকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে পঞ্চবটী থেকে সহযোগী নিদানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং তার তথ্য অনুযায়ী নিহত কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, মেরাজ ভৈরবের চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন

