সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের ভোটার, প্রধান শিক্ষক বাংলাদেশের স্কুলে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
দীপক চন্দ্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত
expand
দীপক চন্দ্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের একাধিক তদন্ত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় দীপক চন্দ্র সরকারের নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার বরশুল এলাকার বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত।

অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরও তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ কারণে তার শিক্ষক পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রথমে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও বিষয়টি তদন্ত করেন।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে পাইকগাছার ইউএনও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় দীপক চন্দ্র সরকারের নাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। ফলে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টিকে গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠান।

এদিকে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো এবং আয়া পদে তার শালিকাকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী পদে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের পাঁচ লাখ টাকা প্রণোদনা অনুদানের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে বাকি অর্থের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভারতীয় ভোটার হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজে ভারতে ভোটার হননি। তার দাবি, তাকে ফাঁসাতে কেউ ভারতের ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। প্রথম নোটিশের জবাব না দেওয়ায় পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশের জবাব তিনি দিয়েছেন।

এখন তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও অভিযোগ চললেও এখন পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বহাল রয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank