বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা 
expand
বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা 

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নং কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপির নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির এক গ্রুপ বলছে এর পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তবে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ অন্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

সমালোচকদের দাবি, অতীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদাসহ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহ রয়েছে। বিগত দিনে বাধ্য হয়ে আমির হোসেন আমুর প্রোগ্রামে যেতে হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা যোগদানের কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির সভা হওয়ায় সৌজন্যতাবশত ইউপি চেয়ারম্যান রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এজাজ হাসানের ভাষ্য, এটি ছিল বিএনপির একটি নিয়মিত সাংগঠনিক সভা এবং দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতি ও ইউপি নির্বাচনে পড়তে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন