

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার ৮৮ নম্বর ভবেরবেড় মৌজায় সরকারি জমিতে থাকা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণ উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৮৮ নম্বর ভবেরবেড় মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের সিএস ও এসএ ২৮২ নম্বর দাগের ৪১ শতক সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তার একটি অংশ দখল করে মাসুম, পিতা মৃত কালু শেখ, ভবেরবেড় এলাকার বাসিন্দা, ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে নয়টি পরিবারসহ স্থানীয় অসংখ্য মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আদালতের নির্দেশে শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে ওই প্রতিবেদনে সরকারি জমি ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার প্রকৃত অবস্থা সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। প্রতিবেদনে পাবলিক ইজমেন্ট বা জনসাধারণের চলাচলের অধিকার রয়েছে কি না, সেটিও কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে ৬২১ নম্বর দাগের জমি নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। নায়েব আইয়ুব সরকারি জমির ৬২১ নম্বর দাগ ১ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করলেও এ্যাসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে ওই দাগে সরকারি জমি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অসঙ্গতির কারণে প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
তারা জানান, চলাচলের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগে গত ৩১ মার্চ প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। একই সঙ্গে রাস্তা ফিরে পেতে শার্শা সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নম্বর ৪০/২০২৬ দায়ের করা হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫/১৩৩ ধারায় পি-২২২/২৬ নম্বর আবেদনও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, গত ১২ মার্চ যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে শার্শা ভূমি অফিসের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন তারা।
এ সময় বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও অফিস সহায়ক অসীমের বিরুদ্ধেও অনিয়মের লিখিত অভিযোগ করা হলেও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের একটি অংশ অবৈধ দখলদার বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ ও জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থা ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার অবস্থান নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা রাস্তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সরকারি স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তবে প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো প্রতিবেদন তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।


