

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ না থাকায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবার আরও প্রকট আকার নিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত বিচারকদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতি তিনটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সমিতির জরুরি সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আদালত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জন শুরু হয়। আইনজীবীদের অভিযোগ, বিচারকের আচরণ ও নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন, জামিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের পরিবেশ ও পেশাগত আচরণই তাদের প্রধান আপত্তির জায়গা।
আইনজীবীরা জানান, এর আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না পাওয়ায় অনাস্থা প্রকাশের পথ বেছে নিতে হয়েছে।
এদিকে গত বছরের ২৮ আগস্ট সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম বদলি হওয়ার পর বিচার বিভাগে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। পরে ৫ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী যোগ দিলেও চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তারও বদলিতে পদটি আবার শূন্য হয়ে পড়ে। সেই থেকে অতিরিক্ত বিচারকদের দিয়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন চলছে।
আইনজীবীদের মতে, পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী বিচারক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে বিচারপ্রার্থীরা বারবার তারিখ পাচ্ছেন, বাড়ছে খরচ ও সময়ের অপচয়। আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুরের পরিচালনায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বক্তব্য দেন। তাদের একটাই দাবি, দ্রুত স্থায়ী জেলা ও দায়রা জজ নিয়োগ দিয়ে বিচারিক স্থবিরতা দূর করা হোক।
মন্তব্য করুন