

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামালপুরের মাদারগঞ্জে বহুল আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-শাখাওয়াত, সোহেল, আল-আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-চান মিয়া, জিয়ার আলী, শাহ আলম, কাওছার, সুমন মিয়া, রিফাত ও গোলাম মোস্তফা ।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটখেত থেকে পুলিশ মহর আলী ও স্বপন মিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মহর আলী ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়া পড়তেন দশম শ্রেণিতে।
এ ঘটনায় নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বহুল আলোচিত এ জোড়া হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো।
রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামিপক্ষ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।
মামলার সাজাপ্রাপ্ত সব আসামি এবং বাদীপক্ষ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।


