

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ফেনী পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে।
গত ৭ জুলাই এনপিবি নিউজে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৪ জুলাইয়ের এক অফিস আদেশে নাজমুল জিসানকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা থেকে ফেনী পৌরসভায় বদলি করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেওয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন অভিযোগকারী ঠিকাদার মো. সোহেল মিয়া, যিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ওই বরাদ্দের আওতায় উন্নয়নকাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসান তার কাছ থেকে অগ্রিম ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাকে কোনো উন্নয়নকাজ দেওয়া হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি টাকা ফেরত পাননি। প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে সোহেল মিয়া অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার কাছ থেকে নেওয়া ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্র্যাচুইটি থেকে ওই অর্থ সমন্বয়েরও অনুরোধ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল জিসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। তাকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে। আমি এ অভিযোগের প্রতিবাদ করব।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি আমার যোগদানের আগের সময়ের। তবে অভিযোগকারী এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে দেখা করেননি।
তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ নিয়ে এলে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, নাজমুল জিসান শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ, বিল উত্তোলন এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।