

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য কলেজ মাঠ ও রেললাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অনুমোদন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত জননিরাপত্তা ও সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদনে বহরা ইউনিয়নের মনতলা সরকারি শাহজালাল কলেজের মাঠসহ রেললাইনের সংলগ্ন এলাকায় পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি বিধিমালার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং সড়কের পাশে হাট বা বাজার বসানো নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের দাবি, কলেজ মাঠটির বর্তমান অবস্থা এমনিতেই নাজুক। সেখানে পশুর হাট বসানো হলে মাঠের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশের জায়গায় হাট বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে অস্থায়ী হাটগুলোর দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র একদিনেই দরপত্র ফরম বিক্রি, জমা ও খোলার দিন নির্ধারণ করায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মাধবপুর পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী গরুর বাজারটি এবার ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ লাখ টাকার নিচের গরুর জন্য ৫০০ টাকা এবং এর বেশি মূল্যের গরুর জন্য ১ হাজার টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উপজেলার বাকি ১৭টি অস্থায়ী হাটের ইজারাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, পৌর বাজারে তুলনামূলক কম টোল নির্ধারণের কারণে অধিকাংশ ক্রেতা সেখানে ভিড় করবেন, ফলে অন্যান্য হাটে ক্রেতা সংকট দেখা দিতে পারে এবং হাটগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “নিজেরা বিধিমালা ভঙ্গ করে কলেজ মাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হাস্যকর। বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাট ব্যবস্থাপনায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বিধি মোতাবেক স্থান নির্ধারণ ও টোল ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা জরুরি।