

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত তালিবপুর আহ্ছানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা ৮ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। এর মধ্যে ১১ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন।
দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিবারগুলো আজ দারিদ্র্য ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ সংসার চালাতে ঋণের বোঝায় জর্জরিত, আবার অনেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয় জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে আর্থিক লুটপাট, চরম অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে আর্থিক অনিয়ম ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নেই বলে দাবি শিক্ষক-কর্মচারীদের।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমাস উদ্দিন বলেন,বর্তমানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আমরা বারবার তার কাছে সমস্যার সমাধানের জন্য গিয়েছি, কিন্তু তিনি আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান, কয়েক মাস আগে আমরা ইউএনও স্যারের কাছে বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা এখনও বেতন পাচ্ছি না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কতিপয় ব্যক্তি আমাদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করছে। তারা লুটেপুটে খাচ্ছে, আর আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ অবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন
