

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটকের ঘটনায় জেলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দাবি করছে, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ফাঁদ পেতে তাকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে; অন্যদিকে এ ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক নাটক’ আখ্যা দিয়ে আশরাফুল আলমের মুক্তির দাবিতে যশোর দুদক কার্যালয় ঘেরাও করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর শতাধিক শিক্ষক যশোর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও যোগ দেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দুদকের অভিযানের কিছুক্ষণ আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে দেয়। পরে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে নাটক সাজানো হয়।
শিক্ষকদের হুঁশিয়ারি, আশরাফুল আলমকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তারা। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরো ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আশরাফুল আলম একজন সৎ কর্মকর্তা এবং তিনি কখনো ঘুষ লেনদেনে জড়িত নন। বরং অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তাকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি অভিযোগকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, দুদক জানায়, যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগ যাচাই করে ফাঁদ পাতা হয়। অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, তার প্রয়াত স্ত্রীর পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর নামে আশরাফুল আলম প্রথমে ৮০ হাজার টাকা নেন এবং পরে আরও ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে পেনশন আটকে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযান চালিয়ে আশরাফুল আলমকে তার কক্ষ থেকেই হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১০ টা পর্যন্ত দুদক কার্যালয় ঘিরে রাখেন শিক্ষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুরো ঘটনা নিয়ে জেলায় প্রশাসন ও শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
