বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিলাম ছাড়া ব্রীজ ভেঙ্গে বাড়িতে নিয়ে গেলেন চেয়ারম্যান

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ভেঙে নিয়ে যাওয়া সেতু
expand
ভেঙে নিয়ে যাওয়া সেতু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ছাড়াই দুইযুগ আগের একটি পুরোনো সেতু ভেঙে অন্তত ৩০ হাজার ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সেতুটি ভাঙায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

জানা যায়, প্রায় ২ যুগ আগে এই সেতুটি তৈরি করা হয় উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর-রাজনীতির বাজার রাস্তায়। এই পথ দিয়ে দিন-রাত চলাচল করেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় চলাচল করতো রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা যানবাহন।

কিন্তু সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান সেতুটি ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর ব্রীজটির উপরিভাগের পুরোটাই ভাঙার কাজ শেষ। এখন চলছে নিচের অংশ ভাঙার কাজ। ভাঙার পরে এসব ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান।

সেতু ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা কাজ করছি। আর ২-৩ দিন হলে ভাঙা শেষ হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের কথা বলে নিলাম বা দরপত্র ছাড়াই গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক দিয়ে সেতুটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন। আর সে সব ইট ও রড বাড়ীতে নিয়ে গেছেন তিনি। আর কোনো রাস্তা না থাকায় রিকশা, ভ্যান নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারা। তারা আরো বলেন, ব্রীজ ভাঙার নিলাম হলেও তো পেপার-টেপার বা মাইকিং করার কথা। সেটাও তো আমরা জানিনা। দক্ষিণ রাজিবপুর ওয়ার্ডের মেম্বার লিটন মিয়া বলেন, আমার এলাকার ব্রীজ ভাংলো অথচ আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না!

সেতু ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ধোপাডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের ওই চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ওই স্থানে একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প ধরা হয়েছে। তাই এটি ভাঙ্গা হচ্ছে। ভাঙ্গার অনুমতি আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজ উপজেলা অফিসে আছে। পরে দেখানো হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান বলেন, 'বিষয়টি আমি জানতাম না। কোনো এক কাজে ওই এলাকায় গেলে পুরানো সেতুটি ভাঙ্গার বিষয়টি নজরে আসে। তখন চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে নিষেধ করি। তবে পুরানো সেতুটি অপসারণ করতে টেন্ডারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান পিআইও।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, নিলাম ছাড়া ব্রীজটি ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়া ঠিক করেননি ইউপি চেয়ারম্যান। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank