

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটারের গোড়ায় সংযোগ রয়েছে তারের। বাতিও জ্বলছে নিয়মিত। কিন্তু তবুও অফিসিয়ালিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখিয়ে গ্রাহকের নিকট পুনঃ সংযোগ ফি দাবির অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ২ জুন বিলম্ব ফিসহ ৪ মাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করেন পৌরসভার বামনজলের মো. দুলা মিয়া নামের এক গ্রাহক। পরে জুন ও জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েন দরিদ্র ওই গ্রাহক।
বাধ্য হয়ে গত ১৭ আগস্ট অফিসে যান তিনি। প্রধান কর্মকর্তার কাছে যেতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন ওই গ্রাহককে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলিং শাখার এক নারীর কাছে। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে গত ১৫ মে। পুনঃ সংযোগ নিতে দাবি করা হয় ৮শ ২৮ টাকা।
চালু মিটার বিচ্ছিন্ন দেখানো হয় কীভাবে-জানতে চান দুলা মিয়া। আবার অফিস প্রধানের রুমে যেতে চাইলে তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় বিলম্ব মাশুলসহ ১৫৩ টাকার জুন মাসের বিল। পরে সেই বিল ব্যাংকে পরিশোধ করে বাড়িতে ফেরেন তিনি। কিন্তু তারপরেও জুলাই-নভেম্বর মাসে কোনো বিলের কাগজ পাননি তিনি। গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) অফিসের ৩ কর্মচারী মিটার খুলতে আসলে স্থানীয়দের নজরে আসে বিষয়টি।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেও অফিসে বসে কাগজ-কলমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখানোর বিষয়টিকে হয়রানি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অন্যান্য গ্রাহকেরা। তারা বলছেন, একজনের লাইন কাটার সময় আশপাশের অন্তত ১৪ জন মানুষ উপস্থিত হয়। কিন্তু তার লাইন তো কাটা পড়ে নাই কখনো। তাছাড়া কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে খারাপ ব্যবহার করেন অফিসের নারী স্টাফরা।
দুলা মিয়া বলেন, আমি গরীব মানুষ এবং পড়াশোনা জানি না। অফিসে ৪ মাসের বিল দিয়ে আসার পর দুই মাস আর কোনো বিলের কপি না পেয়ে অফিসে যাই। স্যারের কাছে যেতে চাইলে আমাকে টেনে নিয়ে যায় ওই মহিলার কাছে। বলে, আপনার লাইন কাটা হয়েছে। ৮২৮ টাকা জমা দিতে বলেন তিনি। এটা শুনে মনে হয় আমি আকাশ থাকি মাটিতে পড়লাম। কেউ তো আমার লাইন কাটে নাই। কোনো অফিসারও লাইন কাটতে যায় নাই। লাইন তো চালু আছে। আমি ক্যান টাকা দেব? এটা শুনে, আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি। স্যারের কাছে যাব বললে পরে জুন মাসের বিল দেন। আমি তা দিয়ে আসি। পরে আর কোনো বিল দেয় নাই। আজ আসছে আমার মিটার খুলে নিয়ে যেতে। এই অন্যায়গুলোতে কেউ দেখেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুলা মিয়ার ঘরের বেড়ায় থাকা মিটারটি সচল এবং ঘরে আলো জ্বলছে। গত ৬ জুন পর্যন্ত যার কিলোওয়াট ঘন্টা (কে ডব্লিউ এইচ) ছিল ৬৩০ এবং বর্তমানে যা ৭৫৬। আর অফিসে বসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই তা বিচ্ছিন্ন করার রিপোর্ট দেওয়ার অপকর্মটি করেছেন 'ওয়্যারিং পরিদর্শক নেয়ামুল' নামের এক এক কর্মকর্তা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিরীহ মানুষদের হয়রানির মুখে ফেলে অন্যত্র বদলি হয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। পরে মিটারের ছবি, কিলোওয়াট ঘন্টা এবং বিলের কপি দেখানো হলে গ্রাহকের স্বাক্ষর নিয়ে দুই-এক দিনের মধ্যে তা সমাধানের আশ্বাস দিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন
