

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। তার দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও এখন তাকে অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত যুবক। বিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ২টা থেকে উপজেলার শাকপালদিয়া গ্রামের আকমল শেখের ছেলে জাসুদ শেখ ওরফে রুবেলের (৩০) বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন শাহিনুর আক্তার (২৪) নামে ওই তরুণী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, শাহিনুর আক্তার পার্শ্ববর্তী লস্করদিয়া ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের শাহাদত সরদারের মেয়ে। তিনি একজন ডিভোর্সপ্রাপ্ত নারী এবং সাত বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জননী।
জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে ভাঙ্গা উপজেলার মুসকুরনি গ্রামের সামাদ মাতুব্বরের ছেলে জাহিদ মাতুব্বরের সঙ্গে তার সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। তবে মাত্র সাত মাসের সংসার জীবনের পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন শাহিনুর এবং পরবর্তীতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
অভিযোগে শাহিনুর জানান, দুই বছর আগে জাসুদ শেখের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন জাসুদ। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
শাহিনুরের দাবি, শুধু বিয়ে করতে অস্বীকৃতিই নয়, সম্পর্কের সময় তোলা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন জাসুদ। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
বিয়ের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে জাসুদের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত যুবক তাকে চিনেন না বলে দাবি করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন শাহিনুর।
এ বিষয়ে শাহিনুর আক্তার বলেন, "জাসুদের সঙ্গে আমার দুই বছরের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক করেছে। এখন আমাকে অস্বীকার করছে। বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করবো। তার সঙ্গে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি থেকে এক চুলও নড়বো না।"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জাসুদ শেখ (রুবেল) তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি ওই মেয়েকে চিনি না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত তরুণী অভিযুক্তের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।