বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪ মাসে ১৮ দূর্ঘটনা ৩১ জনের প্রাণহানি

ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক ৬ লাইনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ এএম
expand
ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক ৬ লাইনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

দেশের সব মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। অথচ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মাহিন্দ্র, নসিমন নামের এসব অবৈধ যান। এতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত ৪ মাসে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন।

এরমধ্যে চলতি মাসেই ৪টি দুর্ঘটনায় ১২ জন মারা গেছেন। এজন্য একে অপরকের দুষছেন যাত্রী ও চালকরা। দুর্ঘটনারোধে চেকপোস্ট বসিয়ে আর্থিক জরিমানাসহ নানান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায় হাইওয়ে পুলিশ।

দেশের সব আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে তিনচাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। অথচ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের ৪৫ কিলোমিটার অংশে দেদারসে চলছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মাহিন্দ্র, নসিমন-এর অবৈধ যান। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। ঘণ্টায় মহাসড়কে ৬০ ও আঞ্চলিক সড়কে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে গাড়ি চালানোর বিধি রয়েছে।

অথচ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এ নিয়ে পাল্লাপাল্টি অভিযোগ যাত্রী ও চালকদের। অবশ্য হাইওয়ে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে দুর্ঘটনারোধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন তারা।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি মহাসড়কটির সদর উপজেলার ঘটকচরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫ নারীসহ ৭ জন। এর এক সপ্তাহ আগে গত ১৩ জানুয়ারি তাঁতিবাড়ি এলাকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই নারীসহ ভ্যানের তিনযাত্রী নিহত হন। প্রতিবাদে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে দুঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। একের পর এক দুর্ঘটনায় বাড়ছে শঙ্কা।

কুয়াকাটা থেকে রাজধানী ঢাকার মালিবাগের যাত্রী সুব্রত দেবনাথ বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুই লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই প্রত্যাশাটুকু পূরণ হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমে আসবে। তা না হলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা মানুষ প্রাণ হারাবে।

পটুয়াখালীর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পদ্মাসেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। এখন যাতায়াত করতেই আমাদের ভয় করে। আমরা নিরুপায় হয়ে গাড়িতে যাতায়াত করছি। প্রশাসনের দুর্ঘটনার রোধে কঠোর হওয়া উচিত।

পরিবহন চালক গিয়াস উদ্দিন জমাদ্দার বলেন, মহাসড়কে ছোট গাড়িগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ইজিবাইক-মাহিন্দ্র আর নসিমন চলাচল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।

মিজান পরিবহনের-এর চালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কেউই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাই না। তবে সড়কে নতুন নতুন ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে। তাদের কারণেই দুর্ঘটনা হয়। আর তিন চাকার যানবাহন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা গেলে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মাদারীপুর অঞ্চল-এর মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, মহাসড়কে নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী ও চালকদের সচেতনও করা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়ক বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে আর্থিক জরিমানাও আদায় করছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X