

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দিনাজপুরের বিরল উপজেলার চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ময়না বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাসার বিদ্যুৎতের বিল ও সুদের টাকার জের ধরে নিজ স্ত্রীর গলায় রশি দিয়ে হত্যার পর রেললাইনের উপর ফেলে রাখে ঘাতক স্বামীসহ ৩ জন। পিবিআইয়ের হাতে আটক স্বামীসহ ৩ জন আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে আসামিরা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত গৃহবধূ ময়না বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম, তার ভায়রা আব্দুস সালাম ও চাচাত ভাই রুবেল। ব্রিফিংয়ে মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের দিনাজপুর-পঞ্চগড় রেললাইনের ধার থেকে গৃহবধূ ময়না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে ময়না বেগমের জখম, গলায় পেঁচানো দড়ি ও রেললাইনের পারের সঙ্গে বাধা দেখে সন্দেহ হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা লাল মিয়া বাদী হয়ে ২ নভেম্বর জামাইসহ অজ্ঞাত ৪/৫জনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে জিআরপি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলাটি অধিগ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য দেন। তিনি আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালে নিহতের স্বামীসহ ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা ময়না বেগমকে হত্যার পর রেল লাইনে মরদেহ ফেলে রাখে। জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানায় যে, ময়না বেগম স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট হতে ধার কর্জ ও সুদের টাকা নেওয়ার জের ধরে তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ চলতে থাকে। যার কারণে আসামি জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে একাধিকবার মারপিট করে। ঘটনার দিন ২১ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ময়না বেগমকে বিদ্যুৎ বিলের জন্য ২০০০ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে বলে অন্যথায় তাকে মেরে ফেলবে বলে রাগ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বাহিরে বের হয়ে যায়। পরে সেই টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় বিকেলে জাহিদুল ময়না বেগমকে মারপিট করে। এ সময় ময়না বেগম রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত পৌনে ১০টায় ঘটনাস্থলে আসামিরা ময়না বেগমকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা চালানোর জন্য রেললাইনের উপর ফেলে রাখে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে বলে তিনি জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মো. মোস্তাফিজ, মো. মহসীন আলী, প্রদীপ কুমার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
