

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় এক দিনে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন, ওয়ারেন্ট ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ৩০ জনের মধ্যে ছয়জন চোর-ছিনতাইকারী, ১৭ জন মাদক সেবনকারী, চারজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, দুজন ধর্তব্য অপরাধে এবং একজন নিয়মিত মামলার আসামি রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোর-ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন, আবদুল্লাহ (২২), আসিফ (২১), আকাশ চন্দ্র দাস (২৫), জাহিদ হাসান (২৫), রায়হান (২৪) ও সূমী ধর (৩০)। তাঁদের কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও সদর উপজেলার ইউনিয়ন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় ২০২১ সালের একটি মামলা রয়েছে। আসিফের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। আকাশ চন্দ্র দাস ও জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় চুরি ও চোরাই মাল রাখার অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৩৭৯, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রায়হানের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় মারধর, নারীকে শ্লীলতাহানি ও হুমকির অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়।
অন্যদিকে সূমী ধরের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর চুরির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে।
বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা, সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং টেকনাফের বাসিন্দাও রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম মান্না (৩০), রাকিবুল হাসান রকিব (২২), মোহাম্মদ ইফাছ (২৩), এনাম উল্লাহ (২৩), মো. মামুন (২১), জাহেদুল ইসলাম (২২), জাকির হোসেন (২৪), মোহাম্মদ বোরহান (২২), মোহাম্মদ ইসমাইল (২৩), মোহাম্মদ জাবেদ (২৫), সাইফুল ইসলাম (২০), রমজান আলী ওরফে রানা (২৮), নুরুল হাকিম (৩২), জাফর আলম (২৩), মো. রাসেল (১৯), মো. আমির মিয়া (২০) ও মো. তোফায়েল (১৯) রয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগকেই কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকা ও সদর উপজেলার ইউনিয়ন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকজন টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত চার আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলু (৪৫), মো. আব্দুল শুক্কুর, জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ও আসিফ (২১)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ধর্তব্য অপরাধে মো. বাবু ওরফে বাবুল (২৪) ও মো. শুক্কুর আলী (১৯) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুজনের স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকায়। বর্তমানে তারা কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকায় বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়াও নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে লিয়াকত আলী (৬২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কক্সবাজার শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সেবনের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল ও অভিযান বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ করে কেউ যাতে পার না পায়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সামনে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৩০ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



