রবিবার
১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে হাসপাতালে ৩০ পর্যটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আল-গণি রেস্তোরাঁ
expand
আল-গণি রেস্তোরাঁ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ জন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অধিকাংশের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের ‘আল-গণি’ রেস্তোরাঁ এবং শহরের হোটেল ‘সী প্যালেস’-এর রেস্টুরেন্টকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে পরিচালিত যৌথ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ১৩০ সদস্যের একটি দল শিক্ষা সফরে কক্সবাজারে আসে। শুক্রবার রাতে দলের প্রায় ৩০ সদস্য সুগন্ধা পয়েন্টের আল-গণি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করেন। তারা বারবিকিউসহ বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করেন।

খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর থেকেই কয়েকজন পর্যটকের মধ্যে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে একে একে আরও অনেকে বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথায় আক্রান্ত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে অসুস্থ পর্যটকদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া শুরু হয়। রাতভর চিকিৎসা নেন আক্রান্তরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তানবী জান্নাত বলেন, রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে পর্যটকেরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। মোট ৩০ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের উপসর্গ বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে মনে হয়েছে।

তিনি জানান, আক্রান্তদের কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শনিবার দুপুর নাগাদ অধিকাংশের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা নেওয়া পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মশিউর রহমান ও মাসুম বিল্লাহসহ আরও অনেকে।

ঘটনার পর ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এলে শনিবার বিকেলে সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শুভ্র দাশ। তিনি বলেন, 'অভিযোগের ভিত্তিতে আল-গণি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে রান্নাঘরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে। খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে।'

একই দিনে শহরের আরেকটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান হোটেল সী প্যালেসের রেস্টুরেন্টেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পাওয়ায় একই পরিমাণ জরিমানা করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পর্যটকেরা। রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, পরিবার ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘুরতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে ভাবিনি। পর্যটন নগরীর নামী রেস্তোরাঁয় যদি নিরাপদ খাবার না পাওয়া যায়, তাহলে পর্যটকেরা কোথায় যাবেন?

আরেক পর্যটক মশিউর রহমান বলেন, খাবার খাওয়ার পরপরই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। কক্সবাজারের খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

ভুক্তভোগীরা কক্সবাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল-গণি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের পরিবেশিত খাবার নয়; বরং সৈকত এলাকায় খোলা স্থানে বিক্রি হওয়া অন্য কোনো খাবার বা পানি পান করেই পর্যটকেরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখো পর্যটক আসেন। অথচ অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। নিয়মিত তদারকি না থাকায় খাদ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাদের মতে, পর্যটন শিল্পের সুনাম রক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন