শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে স্থাপনা, দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা 

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২৭ এএম
উজাড় করা কেয়াবন
expand
উজাড় করা কেয়াবন

দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকশূন্য সময়েও থামছে না নির্মাণকাজ। কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) টেকনাফ থানায় এ মামলা দায়ের করেন অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান।

মামলার আসামিরা হলেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

এজাহারে বলা হয়েছে, দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় সমুদ্রসৈকতের পাশেই রিসোর্ট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছিল। গত কয়েক দিনে সেখানে একাধিক কেয়াগাছ কেটে ফেলা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পায়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, সৈকতের সংরক্ষিত অংশে গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদদের ভাষ্য, কেয়াগাছ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বালুচর ও মাটির ক্ষয় রোধে এ গাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নির্বিচারে গাছ কাটা হলে দ্বীপের ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। এ আইনের আওতায় দ্বীপে এমন কোনো কার্যক্রম করা নিষিদ্ধ, যা পানি, মাটি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। নতুন স্থাপনা নির্মাণও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। পরে ২০২২ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া) ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর দ্বীপে ইট ও সিমেন্ট নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।

তবু বাস্তবে দ্বীপে ইতিমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে গত কয়েক দশকে দ্বীপের প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কমেছে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা।

পর্যটকশূন্য মৌসুমেও যদি সংরক্ষিত এলাকায় গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তবে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নজরদারি কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X