শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরাকান আর্মির কবল থেকে প্রথম ধাপে দেশে ফিরছেন ৭০ জেলে

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ৭০ জেলেকে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।

জেলেদের গ্রহণ করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফের জালিয়াপাড়া ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে অন্তত ৭০ জনকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আরাকান আর্মি। নাফ নদীর শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর করা হবে। জেলেদের গ্রহণের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে একাধিক ট্রলারসহ জেলেদের আটক করা হয়। সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলেদের দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলেদের স্বজনেরা জানান, বর্তমানে অন্তত ২০০ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা থাকলেও বেশির ভাগই বাংলাদেশি জেলে। ট্রলারসহ আটকের ঘটনায় জেলেপাড়াগুলোতে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

টেকনাফের জালিয়াপাড়া ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকার কয়েকটি জেলে পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রথম ধাপে ৭০ জনকে ফেরত দেওয়ার খবর তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে বাকিদেরও দ্রুত ফেরত আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজিবি সূত্র বলছে, সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের পরিচয় যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নাফ নদীসংলগ্ন জলসীমায় মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের আটক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন