রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক জালেই মিললো ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফে এক টানা জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে প্রায় ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ।
expand
কক্সবাজারের টেকনাফে এক টানা জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে প্রায় ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ।

কক্সবাজারের টেকনাফে এক টানা জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে প্রায় ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ। পোয়া, ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা, রূপচাঁদা ও ইলিশসহ নানা প্রজাতির ছোট- বড় মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়। বিরল এই ধরা ঘিরে শনিবার দুপুরে সৈকতে ভিড় করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার জেলে রফিক আলম মুন্নার জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। সকাল ৮টার দিকে সৈকত থেকে ৩০ জন জেলে টানা জাল নিয়ে নৌকায় করে সাগরে নামেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, দুপুর ১টার দিকে জাল টানতে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ উঠছে। জালের ভার সামলাতে পরে অতিরিক্ত শ্রমিক ডাকা হয়। মাছগুলো সৈকতের বালিয়াড়িতে তোলা হলে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

জালের মালিক রফিক আলম মুন্না বলেন, এত পরিমাণ মাছ একসঙ্গে খুব একটা ধরা পড়ে না। জাল টানতেই দেখি ছোট–বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভরে গেছে।

পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে দরদাম করে মাছগুলো ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানান, ছোট মাছের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ধরা হয়েছে। বেশির ভাগ পোয়া ও ছুরি মাছ তিনি কিনেছেন। এসব মাছ বরফ দিয়ে ড্রামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আড়াই কেজি কাঁচা ছুরি শুকালে এক কেজির একটু বেশি শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি শুঁটকি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হবে।

বাকি মাছের একটি অংশ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, মহেশখালীয়াপাড়া এলাকার সমুদ্র উপকূলে মাছগুলো ধরা পড়ে। জালে ধরা মাছের মধ্যে পোয়া, ছোট ও বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, রূপচাঁদা ও ইলিশ রয়েছে। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে এসব ছোট মাছের প্রজনন বেশি হয়। প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময় সরকার নির্ধারিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরায় এমন সাফল্য আসছে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, একদিনে ১৩০ মণ মাছ ধরা পড়া শুধু জেলেদের জন্য আর্থিক স্বস্তিই নয়, পুরো উপকূলীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শুঁটকি শিল্প ও পাইকারি বাজারে এর সরবরাহ বাড়বে।

জেলেরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সুফল মিলছে এখন। তবে তারা চান, সাগরে নিরাপত্তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এমন প্রাপ্তি আরও বাড়বে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X