

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোটের পর ‘দেখে নেওয়া’ হবে এমন হুমকির কয়েকদিন পর কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি মুদির দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুখালী ২ নম্বর ওয়ার্ডের জমিদারপাড়া এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পাশে ‘রাশেদ স্টোর’ নামের দোকানটিতে আগুন লাগে।
দোকানটির মালিক নুরুল হাকিম, তিনি স্থানীয় আবু তালেবের ছেলে।
নুরুল হাকিম অভিযোগ করে বলেন, তিনি জামায়াতের সমর্থক হিসেবে সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আনোয়ারির পক্ষে কাজ করেছেন। দোকানের সামনে ওই প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ব্যানার টাঙানো ছিল। ভোটের কয়েক দিন আগে প্রতিবেশী কবির আহমদ, তার ছেলে শাহ জাহান ও মোহাম্মদ নজু তাকে ভোটের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করেন তিনি।
নুরুল হাকিমের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান। শুক্রবার ভোরে চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন দোকানজুড়ে আগুন জ্বলছে। বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও এর আগেই দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে তারা ছুটে যান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, দোকান মালিকের সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। তাদের ধারণা, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়; ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও হয়ে থাকতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রবীণ মুরব্বি বলেন, রাত তিনটার পর হঠাৎ বাইরে হৈচৈ শুনে বের হয়ে দেখি দোকানটায় আগুন জ্বলছে। আমরা কয়েকজন পানি এনে নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমার মনে হয় পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, কারণ দোকানটি একেবারে মাঝখান থেকে জ্বলছিল।
তার দাবি, দোকানদারের সঙ্গে এলাকার কিছু লোকের আগে থেকেই মনোমালিন্য ছিল। তবে সেটা রাজনৈতিক না ব্যক্তিগত, নিশ্চিত করে বলতে পারি না। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করা হোক।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকান চৌধুরী বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেন। তার দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা মসজিদে শপথ করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগকারী শপথ করে প্রমাণ করতে পারলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন অভিযুক্তরা। তারপরও মাঝখানে অন্য কোন পক্ষ ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
