

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করে আলোচনায় এলেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
একজন সংসদ সদস্য এমন গালাগাল করে করতে পারেন - দেখে হতাশ ও ক্ষুব্ধ তারই অনুসারীদের অনেকে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
যদিও গালি দিয়েছেন স্বীকার করে এমপির পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমাকে বেজ্জতি করলে কি আই লাভ ইউ বলব?’
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি লেখেন, ‘হায়রে অপরাজনীতি, মিছিল করল আওয়ামী লীগ, খুশি হলো গফুর লীগ, ব্যর্থ হলো এমপি, বিচার করবে জনগণ’।
পোস্টটিতে সৌরভ হোসেন সরওয়ার নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ‘মাননীয় এমপি মহোদয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় বোঝা যাবে যে আপনার সমন্বয়কেরা কতটুকু বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছে।’
এর জবাবে এমপির অ্যাকাউন্ট থেকে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করা হয়। সেখানে সমালোচককে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘..... (গালি) তোকে হিসাব করার জন্য কে দায়িত্ব দিছে?’
এমপির ওই জবাবের কমেন্টে অনেকেই ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন দেন। এরপর থেকেই ফেসবুকজুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে উদ্দেশ্য করে এরূপ গালাগাল করে, অশালীন ভাষা ব্যবহার করবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে মানুষ সংযত ও শালীন আচরণ প্রত্যাশা করে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু এ ধরনের নিম্মমানের ভাষা একজন জনপ্রতিনিধি কখনও ব্যবহার করতে পারে না। অনেকভাবেই মন্তব্যকারীর সমালোচনার উচিৎ জবাব দেয়া যায় - এভাবে নয়।
এ ধরনের ভাষা ব্যবহার জনপ্রতিনিধির পদ ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলেও জানান তিনি। সমালোচনার মধ্যেই মুখ মুখলেন সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যই লিখছি। সাংবাদিকরা বলবেন, এটা সুপার এডিট! না, এটা কোনো এডিট না, আমি যা বলছি, আমি এটা সত্য বলছি।’
সেই মন্তব্যকারীকে ধরে আনার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ আমি গালি দিছি তো। হেতের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি, তারে পাইলে ধরি নিয়ে আসমু।’
গালি দেয়া নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকা। বিএনপির ঘরানার লোক আমাকে বেজ্জতি করলে আমি কি আই লাভ ইউ বলব! আমি বলতে পারব না? সোজাসাপটা হিসাব।’

