

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যেসব নেতাকর্মীর বউ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে, তাদের বউকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) লালমাই উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্যের সময় এমপি মোবাশ্বের এমন মন্তব্য করেন। পরে এ ঘটনার এক মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু কিছু মুনাফিকের কাছেও আমি ঋণী আছি। এরা কিন্তু আমার দলের বড় বড় নেতা। এরা জামায়াতকে অর্থ দিয়েছে। নিজের বউ জামায়াতরে ভোট দিছে। এখন ইয়ানে (এখানে) ইফতার খাইতে (খেতে) আইছে। মাইত্তি (মারতে) হারস (পার) না? তুই বেডি ইগার লগে (ওই নারীর সঙ্গে) ঘর করস কেমনে? কয়, আই কিত্তাম (আমি কি করবো) হিতি কতা দিয়ালাইছে (সে কথা দিয়ে ফেলেছে)। হিতিরে তালাক দিই দে (তাকে তালাক দিয়ে দাও)।’
তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘যে জামাইকে সম্মান করে না, সে পরিবারকে সম্মান করে না। আমি আগে কইছি না, নফল ইবাদত করতে অইলেও (হলেও) মহিলাদের জামাইয়ের অনুমতি নিতে অয় (হয়)। আর তুমি ভোট দিয়ালাইছ (দিয়ে ফেলছ) হাঁশসো টেয়ার (পাঁচশ টাকার) বিনিময়ে। আমগো নেতারা জামায়াতরে ভোট দিয়ে ফেলছে হাঁশসো টেয়ার বিনিময়ে। আর (আমার) কাছে হেতে গো (তাদের) এসিআর আই (এসে) গেছে। আমার কাছে আছে। দক্ষিণ-উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম সব আমি জানি। হেইতারা কি করে জানেননি? ঢাকা জায়গই (চলে যায়), যাই আর লগে সেলফি তোলে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলে সেলফি দি (দিয়ে) অই যইব (হয়ে যাবে)। আই এন্নে ধরি (আমি এভাবে ধরে)। কিয়ারে চিটিং তুই ভোটের দিন কোনাই আছিলি (কিরে প্রতারক, ভোটের দিন কোথায় ছিলি)।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমার বক্তব্য ক্লিয়ার। নেতাকর্মীদের যেমন শাসন করি, তাদের ভালোও বাসি। তাদেরকে সতর্ক করার জন্য এসব কথা বলেছি। তালাকের কথা আমি বললেই হয়ে যায় না। এটা কথার কথা। তারা পরিবারের শাসনে ছিল না। তাই পরিবারের কর্তা হিসেবে আমি তাদের সতর্ক করেছি।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট পান।
মন্তব্য করুন
