

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, কৃষি খাত শক্তিশালী হলেই জাতীয় অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে। কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। আর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় সহযোগিতাই এ লক্ষ্য অর্জনের প্রধান শর্ত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বাস্তবতায় কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনীতির ভিত শক্ত করা সম্ভব নয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় অংশই কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ঘিরে। এসব বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।
কৃষিজমিতে ভারী ধাতুর (হেভি মেটাল) মাত্রা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এতে জমির উর্বরতা কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হবে। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাটি পরীক্ষা, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং জৈব উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
গোমতী নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকে গোমতীর এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে কাটতে দেওয়া হবে না। নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নিরাপদ খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিন দশক ধরে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে। দায়িত্ব যত গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হবে, দেশের উন্নয়ন তত দ্রুত এগোবে।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চলমান কার্যক্রম, সেবার মানোন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। শেষে কৃষি খাতের উন্নয়নে সমন্বিত ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন
