সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কুমিল্ল-২ আসন

বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টা পাল্টি অভিযোগ

হোমনা-তিতাসা কুমিল্লা থেকে
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
কুমিল্লায় বিএনপি ও 'বিদ্রোহী'র সমর্থকদের সংঘর্ষ
expand
কুমিল্লায় বিএনপি ও 'বিদ্রোহী'র সমর্থকদের সংঘর্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই কুমিল্লা-২ আসনের হোমনার শ্রীমদ্দী গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রচারণার প্রথম দিনেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটায় অত্র আসনের জনমানুষের মনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

উভয় পক্ষের সংঘর্ষের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তাতে ধরপাকড়ের ভয় ও আতঙ্কে ঘটনাস্থল শ্রীমদ্দী গ্রাম বর্তমানে পুরুষ শুন্য বলে জানা যায়।

ঘটনায় বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী সেলিম ভুইয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইন্জিনিয়ার আঃ মতিন খান একে অপরকে দোষারোপ ও দায়ী করে উভয়ে আলাদা আলাদা বিবৃতি এবং উক্ত আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

তাতে তারা নির্বাচনে নিজ নিজ জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে এবং একজন আরেকজনের কাছে পরাজয়ের আশংকায় প্রচারণার প্রথম দিনেই এক পক্ষ আরেক পক্ষকে এমন ন্যাক্কারজনক আক্রমণ করেছেন বলে জানা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় আইনশৃঙ্খ লা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং নির্বাচন যেন জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের আকাংকিত ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে একাকার সর্বস্তরের জনগণ প্রশাসন বরাবর জোর দাবি জানান।

বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভুইয়ার বিবৃতি

গতকাল (২২ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হোমনা উপজেলার হোমনা–শ্রীমদ্দি ওভারব্রিজের নিচে বিএনপির অবস্থান ও আলোচনা সভা চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আঃ মতিন খানের সমর্থক ও অনুসারীরা হামলা, ভাঙচুর এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন।

একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন স্লোগান দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও শালীন রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আলোচনা সভা। সেখানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা প্রমাণ করে যে একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বিএনপির গণজোয়ার থামিয়ে দিতে চায়।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল হামলাকারী ও উসকানিদাতাকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া।

তিনি আরো বলেন, কোনোভাবেই যেন প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ জনগণকে হয়রানি, বিভ্রান্ত বা দমন করার সুযোগ না দেওয়া হয়। নিরপেক্ষ প্রশাসনই সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান শর্ত।

একইসঙ্গে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মাদ মহীউদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালানোর ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে তা জনগণের মধ্যে আরও সন্দেহ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।

প্রশাসনকে এ৭ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আঃ মতিন খানের অভিযোগ

কুমিল্লা-২ নির্বাচনী আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী (তালা মার্কা) ইন্জিনিয়ার আঃ মতিন খান অভিযোগ করে বলেন, গতকাল ২২ জানুয়ারি বিকালে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধন করার জন্য পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী হোমনার শ্রীমদ্দী গ্রামের প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আঃ জলিলের কবর জিয়ারত ও দোয়ার পর তার নির্বাচনী প্রচারণার শুরু করার জন্য শ্রীমদ্দী গ্রামে তার অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে আমার নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করে এবং আমার সমর্কদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ জনের মত আহত হয়।

তিনি বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় এবং বিএনপির প্রার্থী বহিরাগত বলে জনগন তাকে ব্যালটের মাধ্যমে পরাজিত করে এ আসন থেকে বিতারিত করবে এমন আশংকায় বিএনপির একদল সন্ত্রাসী আমাদের শান্তিপ্রিয় মিছিলে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।

আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন মতিন খান।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসন বরাবর জোর দাবি জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী ইন্জিনিয়ার আঃ মতিন খান।

তাঁর ওপর এমন আক্রমণের ঘটনায় জরিত প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মতিন খান উক্ত আসনের রিটার্ননিং কর্মকর্তসহ প্রশাসনের উচ্চ মহলে অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন