

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. কামরুল হুদার মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রীয় গ্যাস আত্মসাতের পুরোনো অভিযোগ।
অভিযোগ উঠেছে, তার যৌথ মালিকানাধীন একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করা হলেও সেই বকেয়া ও সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য মনোনয়ন হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই চলাকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন লিখিতভাবে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মো. কামরুল হুদা যৌথ মালিক হিসেবে যুক্ত থাকা মেসার্স মিয়া বাজার সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেড-এর গ্যাস মিটারে একাধিকবার অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হয়। এতে রাষ্ট্রীয় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বাখরাবাদ গ্যাসের নথি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে চার দফায় মিটার টেম্পারিংয়ের ঘটনা শনাক্ত হয়। প্রথম দুই দফায় প্রায় দেড় কোটি টাকার বকেয়া নির্ধারণ হলেও পরবর্তী দুই দফায় অঙ্ক দাঁড়ায় ১০ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে বর্তমানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী পাওনার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
এ ঘটনায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বিইআরসি-তে বিরোধ নিষ্পত্তি আবেদন, হাইকোর্টে রিট এবং সর্বশেষ আপিল বিভাগে মামলা গড়িয়েছে। যদিও এসব মামলা এখনো বিচারাধীন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে—বকেয়া অর্থ এখনো রাষ্ট্রের পাওনা হিসেবেই গণ্য রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গ্যাস চুরির মামলার পাশাপাশি চৌদ্দগ্রাম থানার একাধিক ফৌজদারি মামলার তথ্যও প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেননি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া বিল ও চলমান মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, যে ব্যক্তি বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি টাকা বকেয়া রেখে আদালতের আশ্রয় নিয়ে সময় পার করছেন, তার কাছ থেকে স্বচ্ছ নেতৃত্ব আশা করা কঠিন।
এ বিষয়ে মো. কামরুল হুদা বলেন, সব বিষয় আদালতে বিচারাধীন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। সরকার কোনো টাকা পাবে না।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলা চলমান থাকলেও সরকারি নথিতে মিটার টেম্পারিংয়ের ঘটনা প্রমাণিত এবং বকেয়া অর্থ এখনো আদায়যোগ্য হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
