বুধবার
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘১২ ফেব্রয়ারি নির্বাচন না হলে দায়ী থাকবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো’

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
সমাজকল্যাণ মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ
expand
সমাজকল্যাণ মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

সমাজকল্যাণ মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ১২ ফেব্রয়ারি ভোট না হলে তার জন্য দায়ী থাকবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো।

চুয়াডাঙ্গায় গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আরো বলেন, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে 'হ্যাঁ' পক্ষে ভোট দিন। আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বের প্রতি দেশ-বিদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। জনগণ সংস্কার চায়, দুর্নীতি চায় না। এজন্য কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরী। সরকার আসবে যাবে, কিন্তু জনগণের মৌলিক নীতি হবে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও অধিকার নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি আরো বলেন, গণভোট জনগণের নৈতিক অধিকার ও দায়িত্ব। গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুন স্বপ্ন দেখেছে,আর কেউ চায় না দেশ আবার আগের মতো বিপথে যাক। একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে সবাইকে গণভোটের প্রতি উদ্যোমী হয়ে উঠতে হবে।

গণভোটের প্রশ্নে সরকার ও রাষ্ট্র নিরপেক্ষ নয়, নৈতিক অবস্থান থেকে আমরা সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। “আপনি যদি হ্যাঁ বলেন, তাহলে আপনি সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলে দিচ্ছেন।

গণভোটকে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, এই গণভোটের পক্ষে দাঁড়ানো মানে ১৪০০ শহীদের পক্ষে দাঁড়ানো, ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো। যুগের পর যুগ একই কাঠামো থাকলে আবার নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। তাই আমরা গণভোটের পক্ষেই থাকব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, গণভোটের প্রচারের জন্য চুয়াডাঙ্গায় একাধিক প্রচার গাড়ি দিনরাত বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে এবং এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ।

এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক মেজর মাসুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম.তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, চার উপজেলার চার নির্বাহি কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X