

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন অভিযোগ করে বলেন, লোহাগাড়ার ইউএনও নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন, জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। নির্বাচনের শুরু থেকেই তিনি দলটির পছন্দমতো ব্যক্তিদের প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি লোহাগাড়ার ইউএনও এবং নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। নির্বাচনকালীন সময়ে তিনি জামায়াতের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে চর দখলের মতো কেন্দ্র দখল করেছে জামায়াতের লোকজন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার গ্র্যান্ড মাশাবী রেস্টুরেন্টের হলরুমে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থক ও নারীদের ওপর সংঘটিত হামলা, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর-লুটপাটের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী দিয়ে জাল ভোটের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। সাতকানিয়ার ঢেমশা, কাঞ্চনা, এওচিয়া এবং লোহাগাড়ার সুখছড়ি ও চান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির সমর্থকদের ওপর ভোট-পরবর্তী হামলা করেছে। তাছাড়া ভোটের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা ছিলেন জামায়াতের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মী, যারা জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে ন্যায়বিচার চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই সাতকানিয়ার কয়েকটি ইউনিয়নে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মহিলাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াতের কর্মীরা দূর থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আমাদের নেতাকর্মীরা ভয়ে এলাকায় থাকতে পারছেন না। এটি শুধু আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত নয়, আমার বুকেও লেগেছে আঘাতের প্রতিটি চিহ্ন। আমি প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক এবং আমাদের নেতাকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপির প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট আসহাব উদ্দীন চৌধুরী নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণের দায়ে ইউএনওকে ওএসডি করার দাবি জানান।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, শেখ মো. মহিউদ্দিন, ছলিম উদ্দিন চৌধুরী খোকন, শেফায়েত উল্লাহ, নুরুল কবির, জসিম উদ্দিন, এ টি এম জাহেদ চৌধধুরী, আবু সেলিম চৌধুরী, দিদারুল হক, সাব্বির আহমদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
