রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই: মূল আসামিসহ  গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ এএম
স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার
expand
স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসময় ছিনতাইকৃত ২৯০ ভরি স্বর্ণের বার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরও দুইজনকে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে কোতোয়ালী থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন এলাকায় যাচ্ছিলেন।

আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-০১, তারিখ-০৫/০১/২০২৬, ধারা-৩৯৪, পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়। পরে পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় কাশিমপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মোঃ মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মূল আসামি সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে, তাঁর নেতৃত্বেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাই সংঘটিত হয়। তিনি আরও জানান, লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তাঁর স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশ (৩৮) এবং তাঁর চাচাতো ভাই রবি কুমার দাস (৪০)-এর কাছে সংরক্ষিত ছিল।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে এবং রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে সিএমপির হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকা থেকে পান্না রানী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বনিক (৪২)-কে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাইকৃত ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরে রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রবি কুমার দাস স্বীকার করেন যে, তিনি স্বর্ণগুলো তাঁর বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে সরল বিশ্বাসে রেখে যান।

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার একটি বাসা থেকে একটি Pure it Classic Germ Kill Kit নামীয় কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়।

বাক্সটির ভেতরে মৌজায় ও হলুদ রঙের কস্টেপে মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের গায়ে ইংরেজিতে লেখা ছিল—“sam 10 TOLAS GOLD 999.0”। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন আনুমানিক ২৯০ ভরি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন আরও আসামিদের গ্রেফতার ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X