

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অধিকাংশই কোটিপতি। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন লাখপতি। বিএনপির এক প্রার্থীর নগদ টাকা কম দেখালেও কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি রয়েছে তিনটি।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের টকশো থেকে বছরে আয় দেড় লাখ টাকা। নির্বাচনে কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখাগেছে, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন পেশায় রাজনীতিক।
তিনি নগদ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬টাকার মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে বছরে আয় ৬ লাখ এবং টক শো থেকে আয় দেড় লাখ। আগেয়াস্ত্র আছে দুটি। বিগত বছরে তার নামে মামলা ছিলো ১৯টি। সবগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তিনি নগদ ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৫২৯ টাকার মালিক। শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় ৬লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেশায় ব্যবাসায়ী। তিনি নগদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮০ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র আছে ১টি। গাড়ি আছে একটি (লাইসেন্সকৃত)। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ টাকা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মোবিন পেশায় চিকিৎসক। তিনি নগদ ১৬ লাখ ৬২ হাজার ২৮০টাকার মালিক। আয়ের উৎস্য বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা সেবা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিগত বছরে মামলায় হয় ৭টি। সবগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৭টাকা। আয়ের উৎস্য ব্যবসা, স্ত্রীর আয় ও বাণিজ্যিক ভাড়া আদায়। আগ্নেয়াস্ত্র ২টি। একটি পিস্তল এবং একটি শর্টগান। গাড়ি একটি। যার অধিকগ্রহনকালে মূল্য ১৪লাখ টাকা।
একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. শাহজাহান মিয়া। পেশায় আইনজীবী। তিনি নগদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৭ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। নগদ ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮২ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। টয়েটা ক্রাউন ১টি (মূল্য ৩১ লাখ), ল্যান্ড ক্রজার জীপ (মূল্য ৬৭ লাখ), মাইক্রোবাস (মূল্য ২৭ লাখ) টাকা।
একই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। পেশায় শিক্ষক। নগদ ২০ হাজার টাকার মালিক। গাড়ি ১টি। যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ টাকা আছে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ১২২টাকা। গাড়ী একটি। যার মূল্য ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৪ টাকা।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মমিনুল হক। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিলো ৪টি। দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার করা হয়। নগদ আছে ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২০ টাকা। মোটরসাইকেল আছে ১টি। যার মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো. আবুল হোসাইন। পেশায় তিনি শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে ১৩টি মামলা ছিলো। এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ লাখ টাকার মালিক। স্ত্রীর আছে ৫০ হাজার টাকা। যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
মন্তব্য করুন
